সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা, লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ১২:২৫ দুপুর

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের এক মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম,  কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু,  মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

আজ সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।

আবেদনে তিনি বলেন, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’- এর ব্যানারে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছিলেন এবং অন্যদেরও প্ররোচিত করছিলেন। তার এই বক্তব্যের কারণে উপস্থিত লোকজন তাদের ঘিরে ধরে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ বলে স্লোগান দেয়। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য তাদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন। এছাড়া, পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানানো হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্যান্যরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন তার বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়, যার উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা। এর অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠান চলাকালীন একদল ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে এবং স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এই ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এবং আটককৃতদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Link copied!