ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ রাত

দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যের এ অংশটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পর গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলেছিল, তারা দেশে ফিরে এলে, থাকলে বা কাজ করলে তাদের আপত্তি নেই। তার দাবি, অতীতেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ নির্বাচনেও তারা তলে তলে একসঙ্গে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা জেল, জুলুম, হত্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা হরতাল, মিছিল ও সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজপথে ছিলেন।

দেশের কিছু মানুষ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের উপকারের জন্য নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর মতো কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা ও বোনদের সহযোগিতা, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হলে ধীরে ধীরে মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন এবং বন্ধ মিল ও কারখানা চালুর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়। একই সঙ্গে যারা দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল মানুষের কাছে বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেহেশত ও দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। মানুষের এ ধরনের দাবি করা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, যারা গুপ্ত ও স্বৈরাচারী রাজনীতি করে এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কোনো কর্মসূচি নেই, তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। তাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গেলে জনগণের জন্য কী কর্মসূচি থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য কাজ করার বিষয়টি সরকার কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। এর আগে অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। ফেনীর ফুলগাজীতে অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচিও ছিল।

দিনব্যাপী ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

Link copied!