ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫২ সকাল

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি গোল ও বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোসের অন্তিম মুহূর্তের হেডে জয় তুলে নেয় পর্তুগিজরা। শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া গোল করলেও ভিএআরের মাধ্যমে অফসাইড ধরা পড়ায় সেটি বাতিল হয়।

এই জয়ে শেষ ষোলোতে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ স্পেন। অন্য ম্যাচে স্পেন ৩-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটের দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপে দুই ইবেরিয়ান প্রতিবেশীর বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই দেখতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের শট ডমিনিক লিভাকোভিচ ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে ভিতিনিয়ার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ১৬ মিনিটে কর্নার থেকে রেনাতো ভেইগার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। ২৩ মিনিটে আরেকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগে তারা সাতটি শট নেয়, যেখানে ক্রোয়েশিয়ার ছিল মাত্র একটি। ৩০ মিনিটে রাফায়েল লিওর দারুণ ক্রস থেকেও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি রোনালদো। একই বল ব্রুনো ফের্নান্দেসও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল। এই সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যানেও নাম লেখান রোনালদো। তাঁর নেওয়া শটটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ৩০তম শট, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে নকআউটে গোলহীন থাকা কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ শটের রেকর্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের দুর্দান্ত শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা। পাঁচ মিনিট পরই এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইয়োসিপ স্তানিসিচের ক্রস নিয়ন্ত্রণে এনে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন ইভান পেরিসিচ। তিন মিনিট পর আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে দ্বিতীয় গোল পায়নি ক্রোয়াটরা। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৬১ মিনিটে রোনালদো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

অবশেষে ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরান রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে গোলের দেখা পান তিনি। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ৭৫ ও ৭৭ মিনিটে পেরিসিচ ও কোভাচিচের প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন দিয়োগো কস্তা। ৮০ মিনিটে আবারও অফসাইডের কারণে রক্ষা পায় পর্তুগাল। ৮৮ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগ পেয়েও ফাঁকা গোলে হেড করতে ব্যর্থ হন মারিও পাসালিচ।

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারণী মুহূর্ত। বাম প্রান্ত থেকে রাফায়েল লিওর নিখুঁত ক্রসে উঁচুতে উঠে হেডে বল জালে জড়ান বদলি স্ট্রাইকার গনসালো রামোস। লিভাকোভিচ চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি।

তবে নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১৩ মিনিটে জসকো গাভার্দিওল বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরানোর আশা জাগান। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মারিও পাসালিচ অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোল বাতিল হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

আগেই নিশ্চিত ছিল, এই ম্যাচের পর দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হবে। শেষ পর্যন্ত বিদায় বলতে হয়েছে মদরিচকে। অন্যদিকে রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন বেঁচে থাকল আরও অন্তত একটি ম্যাচের জন্য। এখন শেষ ষোলোতে স্পেনের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় পর্তুগাল।

Link copied!