আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে কি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে? বোধকরি ভোজিনিয়া নামক এক গোলকিপার নিয়েই। যার বীরত্বে কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নকে রুখে উঠে এসেছে নকআউট পর্বে। কেন ভোজিনিয়া নামক এক ৪০ বছর বয়সীকে নিয়ে এত আলোচনা, সেটি তিনি আরও একবার জানান দিলেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রায় রুখেই দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ যাত্রায় আর হয়নি। ভোজিনিয়া জুজু তাড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
শনিবার ভোরে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন লিওনেল মেসি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। আর কেপ ভার্দের হয়ে দুটি গোল করেন দিরয় দুয়ার্তে এবং সিডনি লোপেজ কাবরাল। আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি আসে কেপ ভার্দের আত্মঘাতি গোলে।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরকে মোকাবিলা করতে হবে আর্জেন্টিনাকে। যারা এই রাতেই পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে (১) ৪-২ (১) ব্যবধানে হারিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার রাতে মিশরের বিপক্ষে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল।
এদিন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে একশতম ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ালেন লিওনেল স্কালোনি। আর ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙিয়েছে তাঁর দল। আর সেই সঙ্গে থামলো কেপ ভার্দের রূপকথা।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রথম সম্ভাবনাময় আক্রমণ করে কেপ ভার্দে। তবে ডি বক্সের ভেতরে গিয়ে দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস খেই হারিয়ে ফেলায় বিপদ ঘটেনি আর্জেন্টিনার। ধীরে ধীরে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে কেপ ভার্দের রক্ষণে কোনো আক্রমণই সাজাতে পারেনি তারা।
প্রথমার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পরপরই মেসির পায়ে জাদু। চমৎকার ফিনিশিংয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ২৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধের কাছাকাছি থেকে লং বল দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। প্রথম ছোঁয়ায় দারুণভাবে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন মেসি। পরে অনায়াসেই ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এবারের বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোলের দেখা পেলেন মেসি। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে এটি তাঁর ২০তম গোল। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন মেসি। এটিও বিশ্ব রেকর্ড।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ৭ গোল করেছিলেন মেসি। এবার মাত্র ৪ ম্যাচেই তিনি করে ফেললেন ৭ গোল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক আসরে ৭ গোলের রেকর্ডও নিজের করে নিলেন তিনি।
ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনার রক্ষণে হানা দেয় নিয়মিতই। যদিও ডি-বক্সের কাছে এসে কমে যাচ্ছিল তাদের তীব্রতা। ২৯ মিনিটে আরও একবার লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে শেষ তাদের আক্রমণ। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্কালোনির শিষ্যরা।
৫৪ মিনিটে দিরয় দুয়ার্তের বা পায়ের জোরাল নিচু শট, বা দিকে ঝাপিয়ে অবশ্য আটকে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ম্যাচে প্রথম কোনো বড় হুমকির মুখে পড়েন আর্জেন্টিনা গোলকিপার। কিন্তু তখনও হয়ত জানতেন না তাঁর জন্য আরও কত বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
খানিক পরই তা টের পান মার্তিনেজ। ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে রায়ান মেন্ডেস ক্রস দেন দুয়ার্তেকে। কেপ ভার্দের এই মিডফিল্ডার নিচু শটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বা পোস্টের নিচের কোনা দিয়ে বল জালে জড়ান। ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
৬৩ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন কেপ ভার্দের গোলকিপার। বক্সে ঢুকে মেসি শট নিলে গোলকিপার আটকে দেন। ১০ মিনটি পর বক্সের একদম সামনে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে মেসির শট অন টার্গেটে ছিল, টপ কর্নার দিয়ে বল জাল খুঁজে নেবে মনে হচ্ছিল, কিন্তু ভোজিনিয়া লাফিয়ে কর্নার করে দেন।

আপনার মতামত লিখুন :