শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার দ্রুত বিচার, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৭ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে অবস্থান, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পদযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সংগঠনের দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন। প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় দিনের কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে টেকনাফ পর্যন্ত চলবে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’। ৩১ দিনের এই পদযাত্রা ৬ নভেম্বর টেকনাফ জিরো পয়েন্টে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির ১৫তম দিনে সাভারে পথসভা এবং ২১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, পদযাত্রার পথে বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তিন দফা দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করা হবে। শাহবাগের মহাসমাবেশের পর আবার টেকনাফের উদ্দেশে পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এর বাইরে আগামী ১২ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় আরও কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।
ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা। পাশাপাশি হাদী হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম অভিযোগে এসেছে এবং যারা ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
কর্মসূচির প্রথম দিনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। উদ্বোধনী বক্তব্যে জাবের বলেন, শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যার পেছনে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তারা প্রত্যাশিত সুস্পষ্ট বার্তা পাননি।
তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত, আওয়ামী লীগ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ আল জাবের। তবে এসব অভিযোগকে সংগঠনের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়; তাদের অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
হাদী হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে এরই মধ্যে একাধিকবার সময় পেছানোর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা বিদেশে রয়েছেন, তাদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে দ্রুত সাড়া আশা করছে বাংলাদেশ।
জাবের আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে চান তারা। একই সঙ্গে সরকারকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য। তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি কিংবা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :